রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুরঃ
অসহায় মানুষের কান্নায় সিক্ত হলো প্রশাসনের হৃদয়। সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে শয্যাশায়ী হতদরিদ্র ইন্তাজুলের করুণ কাহিনী নাড়া দিয়েছে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসানকে। সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি ইন্তাজুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য এক মানবিক নজির স্থাপন করেছেন, যা এখন পুরো ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গত ২০ মার্চ, ২০২৬ শুক্রবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে “একটি জীবন বাঁচাতে মানবিক আবেদন, বিছানায় শয্যাশায়ী অসহায় ইন্তাজুলের বাঁচার আকুতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। কোটচাঁদপুরের সৃজনশীল সিনিয়র সাংবাদিক রফিক মন্ডল ইন্তাজুলের মানবেতর জীবনের চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। অনলাইনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে বিষয়টি সরাসরি নজরে আসে জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসানের।
সংবাদ দেখার পর বিন্দুমাত্র দেরি না করে সাংবাদিক রফিক মন্ডলের মাধ্যমে ইন্তাজুলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন ইউএনও। এরপর অসহায় পরিবারটিকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান তিনি। সেখানে ইন্তাজুলের স্ত্রীর হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন এবং চিকিৎসার জন্য সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সহায়তা প্রদানকালে ইউএনও এনামুল হাসান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “প্রশাসন কেবল দাপ্তরিক কাজের জন্য নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার জন্য। ইন্তাজুলের মতো অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর খোঁজ নিতে সশরীরে বাড়িতে যাব এবং তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন তা করার চেষ্টা করব।”
উল্লেখ্য, হতদরিদ্র ইন্তাজুল সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে প্রথমে যশোর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে ইনফেকশনের কারণে দ্বিতীয় দফায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেও মেলেনি স্বস্তি। খাট থেকে নামতে গিয়ে তৃতীয়বারের মতো পা ভেঙে যায় তাঁর।
বর্তমানে ঘরে শয্যাশায়ী হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঝিনাইদহের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ইউএনও এনামুল হাসানের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, প্রশাসনের এমন মানবিক ও জনবান্ধব আচরণ সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে। ইন্তাজুলের পরিবার এখন নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে।


