স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের বিরামপুর এলাকায় এক আইনজীবীর বাড়িতে হামলা ও তাঁর ছেলেকে মারধরের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর এবার ঘটনাটি সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিয়েছে। আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুক্তাদিরুল হকের মামলার অন্যতম আসামি শিমুল হোসেন এবার কোতোয়ালি মডেল থানায় পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোমবার (১৮ মে) রাতে বিরামপুর সাইকেল হাট এলাকার বাসিন্দা শিমুল হোসেন বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট মুক্তাদিরুল হকের ছেলে আরিক জাহান সময়সহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই পাল্টা অভিযোগ দেন। অভিযোগে সময়ের বিরুদ্ধে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নগদ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন একই এলাকার মাহিম ও আব্দুর রহমান।
থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে শিমুল হোসেন উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগে স্থানীয় এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর ছেলে ফয়সালকে আসামিরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে (রোববার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফয়সাল স্থানীয় একটি দোকান থেকে পারিবারিক ব্যবসার নগদ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা আরিক জাহান সময় ও তার সহযোগীরা ফয়সালের পথরোধ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসামিরা লোহার রড দিয়ে ফয়সালকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলফোলা জখম করে এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় ফয়সালের পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ফয়সালের গগনবিদারী চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত কেটে পড়ে।
আইনজীবী মুক্তাদিরের পাল্টা দাবি ও সাংবাদিকের নাম:
পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট মুক্তাদিরুল হক বলেন, “আমার বাড়িতে হামলা ও আমার ছেলেকে বর্বরভাবে মারধরের ঘটনায় আদালতে মামলা হওয়ার খবর পেয়েই মূল ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শিমুলসহ ওই চক্রটি থানায় এই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই মিথ্যা অভিযোগের নেপথ্যে ইন্ধনদাতা হিসেবে কলকাঠি নাড়ছেন এশিয়ান টিভির যশোর প্রতিনিধি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান শামীম। মূলত তাঁর কুপরামর্শেই এই সাজানো নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনজীবীর পক্ষ থেকে আদালতে দায়ের করা মামলা এবং শিমুল হোসেনের পক্ষ থেকে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ— দুটি বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিরামপুর এলাকার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


