স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
মেয়ের বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ১৭ বছর বয়সী নিজের আপন কন্যাকে কূপে ফেলে ও পাথর ছুড়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক পাষণ্ড বাবার বিরুদ্ধে। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের তুমাকুরু জেলায় ঘটেছে এই শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। গত এক মাস ধরে কিশোরী মেয়েটি নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুলিশের নিখুঁত তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই গা শিউরে ওঠা চাঞ্চল্যকর তথ্য।
রোববার (১৭ মে) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদনে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত কিশোরীর নাম মেঘনা। সে কর্ণাটকের শিরা তালুকের নিম্বেমারাদাহল্লি গ্রামের বাসিন্দা ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মেঘনার বিয়ে নিয়ে পরিবারে গত ৪-৫ মাস ধরে চরম বিরোধ ও নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। মেঘনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলেই মায়ের পছন্দের এক আত্মীয়ের ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিলেন মা নির্মলা। এমনকি সম্ভাব্য পাত্রপক্ষ বিয়ের কেনাকাটা হিসেবে শাড়ি ও মঙ্গলসূত্রও অগ্রিম কিনে রেখেছিল। কিন্তু স্ত্রীর পক্ষের সেই আত্মীয়ের সাথে মেয়ের এই বিয়েতে তীব্র আপত্তি ছিল বাবা থিম্মারায়াপ্পার। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
গত ১৬ এপ্রিল হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় মেঘনা। সেদিন সন্ধ্যায় মা নির্মলা দিনমজুরির কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। মেঘনার মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে স্বামীর সহযোগিতাতেই থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি (জিডি) করেন মা।
নিখোঁজের পর মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ বাবা থিম্মারায়াপ্পাকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে একপর্যায়ে সে ভেঙে পড়ে এবং নিজের মেয়েকে ঠান্ডা মাথায় খুনের কথা স্বীকার করে।
তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার দিন মেঘনাকে একা পেয়ে পাষণ্ড বাবা প্রথমে তাকে একটি গভীর কূপে ফেলে দেয়। এরপর সে যেন কোনোভাবেই বেঁচে ফিরতে না পারে, সেজন্য উপর্যুপরি ভারী পাথর ছুড়ে কুপের ভেতরেই মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করে। মেঘনার মৃত্যু হলে গভীর রাতে কূপ থেকে তার মরদেহ টেনে বের করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মাটিচাপা দেয় খুনি বাবা।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, নিজের সন্তানকে নিজ হাতে এতো নৃশংসভাবে খুন করার পরও খুনি বাবার কোনো অনুশোচনা ছিল না। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এবং স্ত্রীর সন্দেহ এড়াতে সে নিজে ভালো সেজে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে থানায় গিয়ে মেয়ের নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের সব নাটক সাজিয়েছিল। বর্তমানে ঘাতক বাবা থিম্মারায়াপ্পাকে গ্রেফতার করেছে কর্ণাটক পুলিশ। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও প্ররোচনা বা সহযোগিতা ছিল কি না, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ছবি সংগৃহীত। সূত্র-আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।


