স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদরের সাজিয়ালী ও দোগাছিয়া মৌজায় আদালতের রায়ে মীমাংসিত জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে এক বিধবা নারীর বিরুদ্ধে দুষ্কৃতিকারীদের। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত বদর উদ্দিন বিশ্বাসের চার ছেলে বজলুর রহমান, নুর ইসলাম, নূর মোহাম্মদ ও জামাল উদ্দিন বিশ্বাসের ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন ধরে সাজিয়ালী ও দোগাছিয়া মৌজায় ২১১ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। এ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২০ সালে যশোর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি বন্টননামা মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক বৈঠকের পর ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজ নিজ অংশ বুঝে নিয়ে মিউটেশন সম্পন্ন করে জমি ভোগদখল করতে থাকেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন পরই দুষ্কৃতিকারীদের প্ররোচনায় বিবাদীপক্ষের কয়েকজন সদস্য অন্য অংশের প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ধান রোপণ করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং জোর করে জমি লিখে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের অনেকে কর্মসূত্রে এলাকায় না থাকায় এবং এক পক্ষের একজন বিধবা নারী হওয়ায় সুযোগ নিয়ে দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রথমে ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৩ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আরেকটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী কল্পনা বেগম জানান, তার স্বামী জামাল উদ্দিন একজন শিক্ষক ছিলেন এবং মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি রক্ষায় তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাজিয়ালী ফাঁড়ির টু-আইসি নিয়ামুল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী জমি দখল না করতে অভিযুক্তদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা তা মানছে না বলে তিনি জানান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি।

