অপরাধ, না কি দীর্ঘদিনের প্রশ্রয়ের ফল?

অপরাধ, না কি দীর্ঘদিনের প্রশ্রয়ের ফল?

রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) :

অবশেষে প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও প্রশ্ন উঠেছে—এতদিন কোথায় ছিল এই তৎপরতা? ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর বাজারে বাছুরসহ গাভী জবাইয়ের মতো নির্মম ও বেআইনি কাজ কোনো একদিনের ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিনের অনিয়ম, নজরদারির অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যেরই ফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা

শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে মাংস ব্যবসায়ী মো. ফজলুর রহমান ধরা পড়েন। ভ্রূণসহ গাভী জবাই করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং জব্দকৃত ২৫ কেজি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। তবে স্থানীয়দের মতে, এই নামমাত্র জরিমানা অপরাধীদের দমনে আদৌ যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের ওপর হুমকি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব

এই ঘটনার মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়ন্ত্রিত মাংস মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছিল, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সাথে ছিনিমিনি খেলার শামিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একটি অসাধু চক্র প্রশাসনের চোখের সামনেই এই ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছে। শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ীর জরিমানা করে এই বিশাল নেটওয়ার্ক বা সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয় বলে দাবি অনেকের।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’-এ সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও বাস্তবে শাস্তির প্রয়োগ জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে অপরাধীরা বারবার একই কাজ করার সাহস পায়। সচেতন মহলের মতে, একদিনের লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই অমানবিক অপরাধ ও খাদ্য জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব।

পরিশেষ : মানুষের খাদ্য নিয়ে যারা প্রতারণা করে এবং পশুর প্রতি ন্যূনতম মানবিকতা দেখায় না, তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই অপরাধ আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *