বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়াঃ
কলাপাড়া উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকট, খাবার ও ঔষধ বিতরণে অনিয়ম এবং চিকিৎসাসেবায় অবহেলার অভিযোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালটিতে লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি জেনারেটর ও একটি আইপিএস থাকলেও দুটিই কার্যত অচল। জেনারেটরে তেল না থাকায় সেটি চালু করা যাচ্ছে না, আর আইপিএসের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটিও কাজ করছে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটছে রোগীদের।
বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক রোগীকে হাতপাখা দিয়ে গরম সহ্য করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। তীব্র গরমে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, খাবার বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। প্রতিদিনের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয় না। এছাড়া হাসপাতালের ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় অনেক ঔষধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। কমদামি কিছু ঔষধ মিললেও তুলনামূলক দামি ঔষধ অধিকাংশ সময়ই পাওয়া যায় না।
পাখিমারা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সবুজ বলেন, “এত গরমে হাসপাতালে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে চলে যেতে চাই।”
এক নারী রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ নাই, বাতি নাই, ঠিকমতো ঔষধও দেয় না। রোগীর সঙ্গে এসে আমরাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এটা কেমন হাসপাতাল?”
এদিকে হাসপাতালের নার্স, ওয়ার্ডবয় ও কিছু চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন রোগী ও স্বজন। তাদের দাবি, প্রয়োজনের সময় দায়িত্বশীলদের অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায় না।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি সীমাবদ্ধতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. বিকাশ রায় বলেন, “গত দুই বছর ধরে জেনারেটরের ব্যাটারি অকার্যকর। এছাড়া সরকারিভাবে তেলের বাজেট না থাকায় জেনারেটর চালু রাখা সম্ভব হয়নি। লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএস দিয়ে কাজ চালানো হতো, কিন্তু সেটির ব্যাটারিও হঠাৎ নষ্ট হয়েছে। দ্রুত ব্যাটারি মেরামত করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “খাবার ও ঔষধ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
