স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
নাটোরের গুরুদাসপুরে এক বর্বরোচিত ও অদ্ভুত আইনি হয়রানির ঘটনা সামনে এসেছে। মাত্র ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি করেছে প্রতিপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুটি আদালতে হাজির হলে চোখ কপালে ওঠে খোদ বিচারকের। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির জামিন মঞ্জুর করে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত।
জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১০ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা শাহানুর রহমান বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মামলায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে ৩ নম্বর আসামি করা হয় এবং তার বয়স উল্লেখ করা হয় ২১ বছর। অথচ জন্মসনদ অনুযায়ী শিশুটির জন্ম ২০১৮ সালে (বর্তমানে তার বয়স সাত বছর)।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে শিশুটি তার বাবার সঙ্গে নাটোর নারী ও শিশু আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করে। কোলের শিশুকে এমন গুরুতর মামলার আসামি হিসেবে দেখে বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম বিস্মিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তার জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য দিয়ে মামলা করায় বাদীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে শোকজ করেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, “আমরা অনুমান করে ২১ বছর লিখেছিলাম, তবে ১৫ বছর তো হবেই।” কিন্তু যখন তাকে জন্মসনদের সত্যতা জানানো হয়, তখন তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, বাদী বয়স ২১ লিখে দেওয়ায় পুলিশ বিভ্রান্ত হয়েছে। তবে একটি শিশুর নাম এভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়াটা খতিয়ে দেখা হবে। নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তা বলেন, “সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরণের মামলা গ্রহণ করা কর্তৃপক্ষের চরম অসতর্কতা।” ছবি সংগৃহীত।

