রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা আসিফ ইকবাল কাজল ও তাঁর কন্যাসন্তানের ওপর হওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে জনমনে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন। ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের ১৮ মাইল এলাকায় একটি অজ্ঞাত সাদা রঙের মাইক্রোবাসের ধাক্কায় তাঁরা গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনার ধরণ এবং চালকের দ্রুত পলায়ন বিষয়টিকে কেবল ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ জেলার সচেতন মহল।
ঘটনার রহস্যময় দিকগুলো:
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মহাসড়কের ওই নির্দিষ্ট স্থানে মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। তাসত্ত্বেও পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোবাসটির পালিয়ে যাওয়া বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে:
-
পরিকল্পিত হামলা কি না? দীর্ঘ দুই দশকের সাংবাদিকতা জীবনে আসিফ কাজল দুর্নীতির বিরুদ্ধে অসংখ্য সাহসী প্রতিবেদন করেছেন। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে তাঁকে ‘সরিয়ে দেওয়ার’ চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে।
-
পলায়ন ও নীরবতা: চালক কেন আহতদের সাহায্য না করে দ্রুত সটকে পড়ল? এটি কি নিছক ভয়, নাকি মিশন সফল করে পালানোর কৌশল?
অভিজ্ঞ মহলের বিশ্লেষণ ও দাবি:
ঝিনাইদহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা মনে করছেন, সাংবাদিকদের ওপর বর্তমানে ‘হিট অ্যান্ড রান’ বা গাড়ি চাপা দেওয়ার কৌশলে হামলা বাড়ছে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে ৩টি জোরালো দাবি তুলেছেন:
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ: ১৮ মাইল থেকে ঝিনাইদহ শহর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতক মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা।
হুমকির ইতিহাস খতিয়ে দেখা: ঘটনার আগে আসিফ কাজলকে কেউ হুমকি দিয়েছিল কি না বা তিনি কোনো স্পর্শকাতর সংবাদ নিয়ে কাজ করছিলেন কি না, তা তদন্ত করা।
টার্গেট কিলিং কি না: জনশূন্য স্থানে পরিকল্পিতভাবে চাপা দেওয়ার অপকৌশল দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ভূমিকা নিশ্চিত করা।
বিচারের অপেক্ষায় সচেতন সমাজ:
আসিফ কাজল ও তাঁর মাসুম সন্তানের এমন অবস্থায় জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, “যদি এটি পরিকল্পিত হামলা হয় এবং বিচার না মেলে, তবে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।”
বর্তমান অবস্থা :
বর্তমানে বাবা ও মেয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।


