মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ইছামতী নদী থেকে ১১ দিন আগে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলেছে। তিনি কোনো বাংলাদেশি নন, বরং ইতালির পাসপোর্টধারী আফগান নাগরিক হাশমত মোহাম্মাদি। ইউরোপের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
গত ১৩ এপ্রিল পলিয়ানপুর সীমান্ত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না মেলায় ১৪ এপ্রিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এদিকে, নিহতের আমেরিকা প্রবাসী ভাই মোহাম্মদ ইরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাশের ছবি দেখে নিজের ভাইকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশি এক বন্ধুর মাধ্যমে মহেশপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বেরিয়ে আসে এই রোমহর্ষক কাহিনী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাশমত ইতালিতে বসবাস করতেন এবং পাথরের ব্যবসা করতেন। ভারতে একটি মামলায় ৫ বছর জেল খাটার পর খালাস পেয়ে তিনি ইতালি ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তখন মাসুদ নামে এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাসুদ তাঁকে পরামর্শ দেয়, ভারত থেকে নদী পার হয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে পারলে সহজেই ইতালি ফেরা যাবে।
গত ১১ এপ্রিল হাশমত তাঁর ভাইকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, সামনে একটি নদী (ইছামতী) পার হলেই তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। কয়েকদিন পর দালাল মাসুদ হাশমতের ভাইকে ফোন করে জানান, “আপনার ভাই মারা গেছেন, বাংলাদেশে যোগাযোগ করেন।” এরপর থেকে মাসুদের ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, মরদেহের সুরতহাল দেখেই পুলিশের ধারণা হয়েছিল এটি কোনো বিদেশি নাগরিকের। নিহতের পরিবার বর্তমানে থানায় অবস্থান করছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই টিপু সুলতান জানান, “আমরা দালাল মাসুদের মোবাইল নম্বর পেয়েছি। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা।”
ছবি সংগৃহীত।

