যশোর ইনস্টিটিউটের ভাগ্য উন্নয়নে লড়ছেন রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল

যশোর ইনস্টিটিউটের ভাগ্য উন্নয়নে লড়ছেন রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক,

যশোর: দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ‘যশোর ইনস্টিটিউট’-এর বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন আগামীকাল (২৪ এপ্রিল)। এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক এবং বিএসপিএ’র ২০২৩ সালের বর্ষসেরা সংগঠক মোঃ রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল।

অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে        ভাষা সৈনিক চাচা

মোঃ রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল কেবল একজন সংগঠকই নন, বরং যশোরের ক্রীড়া ঐতিহ্যের এক যোগ্য উত্তরসূরি। তার চাচা ভাষা সৈনিক মরহুম আলমগীর সিদ্দিকী  ও মরহুম গোলাম মোস্তফা সিদ্দিকী ছিলেন শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং পিতা মো: তারিক সিদ্দিকী ছিলেন জেলা দলের সাবেক কৃতি খেলোয়াড়। পারিবারিক এই ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই তিনি দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে মাঠ ও মাঠের বাইরে কাজ করে যাচ্ছেন।

কেন তিনি আলোচনায়?

১. বর্ষসেরা স্বীকৃতি: বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ) যশোর শাখা তাকে ২০২৩ সালের ‘বর্ষসেরা সংগঠক’ হিসেবে সম্মানিত করেছে। ২. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বাস্কেটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অসংখ্যবার বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩. দক্ষ সাংগঠনিক নেতৃত্ব: বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগেও তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত সদস্য হিসেবে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ৪. খেলোয়াড়ী জীবন: ১৯৮৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল ও ব্যাডমিন্টনে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি মাঠ মাতিয়েছেন।

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি:

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবাল জানান, যশোর ইনস্টিটিউটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী ও লাইব্রেরিমুখী করতে তিনি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “যশোর ইনস্টিটিউট আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান। নির্বাচিত হলে এখানকার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আধুনিকায়ন করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”

আগামীকালকের এই নির্বাচনে প্রবাল সাহেবের অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ সদস্যদের ধারণা, তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক মানের সংগঠক জয়ী হলে যশোর ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

এক নজরে রায়হান সিদ্দিকী প্রবালের অর্জন ও পরিচিতি

যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের এক পরিচিত নাম মো: রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল। জন্মগতভাবেই যার রক্তে মিশে আছে খেলাধুলা। যশোরের শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মরহুম গোলাম মোস্তফা সিদ্দিকীর ভাতিজা এবং পূর্ব পাকিস্তান ও জেলা দলের সাবেক কৃতি খেলোয়াড় মো: তারিক সিদ্দিকীর জ্যেষ্ঠ পুত্র তিনি। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ) যশোর শাখা কর্তৃক ২০২৩ সালের ‘বর্ষসেরা সংগঠক’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

শিক্ষা ও খেলোয়াড় জীবন:

১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া প্রবাল যশোরের সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি এবং ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সরকারি সিটি কলেজ ও এম.এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি যশোর ফিজিক্যাল কলেজ থেকে বি.পি.এড ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৮৭ সালে বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও তিনি হ্যান্ডবল ও ব্যাডমিন্টনেও সমান পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি যশোর জেলা দলের হয়ে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। রেইনবো ক্রীড়া সংস্থা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, নবারুণ সংঘসহ দেশের বিভিন্ন নামী ক্লাবের হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় লিগ ও টুর্নামেন্ট খেলেছেন তিনি।

প্রশিক্ষক হিসেবে সাফল্য:

খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ২০০৫ সাল থেকে তিনি প্রশিক্ষক (কোচ) হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এফআইবিএ (FIBA) এশিয়া কোচিং কোর্স ও রেফারি ক্লিনিক লেভেল ১ ও ২ সম্পন্ন করে তিনি বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষক ও রেফারি নির্বাচিত হন। জাতীয় বাস্কেটবল দলের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর দলেও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

দক্ষ সংগঠক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব:

সংগঠক হিসেবেও রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল সমাদৃত। তিনি যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের ৪ বার নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য (২০০৮-২০২৩)। বর্তমানে তিনি বাস্কেটবল ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রশিক্ষক, ম্যানেজার ও অফিশিয়াল হিসেবে তিনি অসংখ্যবার বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

যশোরের ক্রীড়া উন্নয়ন এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে তাঁর অবদান আজ সর্বজনবিদিত। ২০২৩ সালের ‘বর্ষসেরা সংগঠক’ হিসেবে এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রমেরই প্রতিফলন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *