রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক কোটচাঁদপুর (,ঝিনাইদহঃ) থেকে : ২২ এপ্রিল -২০২৬
অবহেলিত ঝিনাইদহ জেলাকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দিতে এবং একটি আধুনিক-পরিকল্পিত ‘মডেল জেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নোমান হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার সুধী সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, জেলায় মাদকের কোনো স্থান হবে না। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে *‘জিরো টলারেন্স’* নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক ব্যাধি মুক্ত ঝিনাইদহ গড়া আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”
শহরের যানজট ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে তিনি একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান। পর্যায়ক্রমে পায়রা চত্বর, আরাপপুর, হামদহ, মর্ডান মোড়, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল এবং শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া পথচারী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি।
সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে মো. নোমান হোসেন বলেন, “আদালত চত্বর, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ ও ভূমি অফিসসহ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দালালমুক্ত করা হবে। সরকারি সেবা পেতে কোনো মানুষ যেন দুর্নীতির শিকার না হয়, সেটি কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।”
পরিবেশ রক্ষায় কৃষি জমির মাটি কাটা রোধ এবং ইটভাটায় ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্টসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারি গাছ কর্তন প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করার নির্দেশনা দেন।
নবাগত জেলা প্রশাসকের এই সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগগুলোকে সাধুবাদ জানিয়েছে ঝিনাইদহের সচেতন মহল। স্থানীয়রা মনে করছেন, এসব পরিকল্পনা মাঠ পর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়ন হলে ঝিনাইদহ একটি আদর্শ ও আধুনিক জনপদে রূপান্তরিত হবে। জেলা প্রশাসক এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলার সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।
ছবি সংগৃহীত।

