স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হোস্টেলে মোটরসাইকেলের তেল ভরা নিয়ে দুই বন্ধুর তুচ্ছ বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশের উপস্থিতিতেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের দুই সদস্যকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত সোয়া ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এমবিবিএস-৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর হামিদুর রহমানের সাথে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল আনা নিয়ে মুয়াজের বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধের জেরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাকের ও ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যরা মুয়াজকে আটক করে হোস্টেল থেকে বের করে নিয়ে আসছেন। ঠিক তখনই পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যেই হঠাৎ নাফিউল ইসলাম নামে এক যুবক হাতুড়ি দিয়ে মুয়াজের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করেন। পুলিশের সামনেই এমন হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় আহত মুয়াজের বড় ভাই আহমদ শফি বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। প্রধান অভিযুক্ত নাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পুলিশ নিয়ে আসার সময় মুহূর্তের মধ্যে অতর্কিত এই হামলা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এটি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
আহত শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ। ছবি-সংগৃহীত

