নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের হাতে শিকার হওয়া সেই কুকুরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই ময়নাতদন্ত করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত কুকুরটির ময়নাতদন্তের পর এর মাথা রাজধানীর সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়েছে। মূলত কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা, তা নিশ্চিত হতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি প্রধান ঘাটে থাকা একটি কুকুরকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। ৫৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে অভিযোগ করেন যে, কুকুরটিকে হাত-পা বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, কুকুরটি অসুস্থ ও হিংস্র ছিল এবং কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর নিজে থেকেই পানিতে নামলে কুমিরটি তাকে আক্রমণ করে।
স্থানীয় দোকানি বিনা আক্তার ও প্রত্যক্ষদর্শী মেহেদী হাসান জানান, কুকুরটি কয়েকজনকে কামড় দিয়ে এবং একটি শিশুকে আক্রমণ করে উন্মাদের মতো পানিতে নামে। কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই হিংস্র ছিল এবং মুহূর্তের মধ্যে কুকুরটিকে শিকার করে। মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ভুল তথ্য ছড়িয়ে মাজারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, মাজারের দিঘিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর কোনো তথ্য সঠিক নয় এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি ভিডিও থেকে নেয়া।


