টিকাদানে গাফিলতির মাসুল দিচ্ছে শিশুরা ! ১০জেলায় হামের ভয়াবহ সংক্রমণ

টিকাদানে গাফিলতির মাসুল দিচ্ছে শিশুরা ! ১০জেলায় হামের ভয়াবহ সংক্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে সংক্রামক ব্যাধি হাম নতুন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অন্তত ১০টি জেলায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই সংক্রমণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৭টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই প্রাণ হারিয়েছে ১২ জন শিশু। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ধস এবং তদারকির অভাবই এই সংকটকে ঘনীভূত করেছে।

হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে রাজশাহীতে ৩জন (মোট ১২ জন), চট্টগ্রামে ৪জন, ময়মনসিংহে ৫ জন, রাজধানীতে ৩ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, পাবনা, খুলনা ও ভোলাসহ ১০টি জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা, যাদের এখনো টিকার সময় হয়নি, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

ইপিআই-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হামের টিকার কভারেজ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের ওপরে থাকলেও ২০২৫ সালে তা নাটকীয়ভাবে ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালে ‘অপারেশনাল প্ল্যান’ (ওপি) বাতিল হওয়ায় মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান ও বিশেষ ক্যাম্পেইন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন।

প্রতি ৪-৫ বছর অন্তর হামের প্রকোপ বাড়ার বৈজ্ঞানিক তথ্য থাকলেও কেন আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এই পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, গত আট বছর হামের টিকা ঠিকমতো না দেওয়ার কারণেই এখন এই প্রাদুর্ভাব। তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জরুরি পদক্ষেপ: উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে ৪০টি নতুন আইসিইউ বেড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • রাজশাহী, ঢাকা মেডিকেল ও ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

  • জুলাই-আগস্ট নাগাদ দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর জন্য বৈশ্বিক জোট ‘গ্যাভি’র কাছ থেকে ২ কোটি সিরিঞ্জ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন জানান, এই রোগ থেকে বাঁচতে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের জ্বর, শরীরে লাল ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ছবি-সংগৃহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *