স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় থার্টি ফার্স্ট নাইটের উৎসবের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক দরবার শরীফের খাদেমের বিরুদ্ধে। শুধু একবারই নয়, ধর্ষণের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত খাদেম শাহ আজম ওরফে প্রান্তর বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত শাহ আজম ওরফে প্রান্ত উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামের মৃত মতিন শাহের ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘বিশ্ব রাহে রাজভান্ডার’ দরবার শরীফের খাদেম এবং সম্পর্কে ভুক্তভোগীর চাচাতো দেবর। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বারবিকিউ রান্নার কথা বলে প্রান্ত ওই গৃহবধূকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে রাত ১০টার দিকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা প্রকাশ করলে সংসার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।
ধর্ষণের পর শুরু হয় বিভীষিকাময় আরেক অধ্যায়। অভিযুক্ত প্রান্ত কৌশলে সেই ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে বারবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ করা হয়। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী বারবার ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানালেও প্রান্ত তাকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাদেক মিয়ার নেতৃত্বে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে পরিবারের পরামর্শে সাহসের সাথে আইনের আশ্রয় নেন ওই নারী। স্থানীয়রা বলছেন, পবিত্র স্থানের খাদেম হয়ে এমন ন্যক্কারজনক কাজ সামাজিক অবক্ষয়ের চরম নিদর্শন।
ভুক্তভোগী নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি প্রান্তর পা ধরে আকুতি-মিনতি করেছি ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য। কিন্তু সে শোনেনি, উল্টো বারবার অত্যাচার করেছে। আমি বিচার চাই।”
পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি


