স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন ভূমধ্যসাগরেই সলিল সমাধি হলো ১৮ বাংলাদেশির। গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবির এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রিয়জন হারানোর খবরে এখন সুনামগঞ্জের গ্রামগুলোতে চলছে শোকের মাতম।
মৃতদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা জেলার দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) এবং রাজানগরের জাহানপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮)। জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের সুহানুর রহমান জিয়া, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান এবং ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গ্রিস কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে নৌকাটি ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। টানা কয়েক দিন উত্তাল সমুদ্রে ভাসতে থাকা নৌকাটিতে খাবার ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দেয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে অনাহার আর পিপাসায় একে একে প্রাণ হারান ১৮ জন। পরে ইইউ সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’ গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।
নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা দেশ ছেড়েছিলেন। তিন দিন আগে পরিবারের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়েছিল। এখন দালালদের বিচার এবং দ্রুত প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছেন স্বজনরা।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতীকী-ছবি


