মোঃ মাসুদ রানা(কালীগঞ্জে)ঝিনাইদহ :
অভাব-অনটনের সংসার। অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করে কোনোরকমে পরিবার চালাতেন সম্রাট বিশ্বাস । স্বপ্ন দেখতেন আদরের সন্তান সুস্থভাবে জন্ম নিয়ে পৃথিবীর আলো দেখবে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই স্বপ্নে নেমে আসে অন্ধকার।অস্ত্রপচারের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডাক্তারদের মাধ্যমে পিতা সম্রাট বিশ্বাস জানতে পারেন তার হৃদয়ে রয়েছে ছিদ্র। যে কারণে জন্মের পর থেকে আজ তিন মাস বয়স অবধি শিশু সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে আর পারছেনা তার পরিবার।
এবার সেই শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ । বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে তিনি ছুটে যান কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রাফির উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার এর নার্সদের নির্দেশনা প্রদান করেন। শিশু রাফির পরিবারের হাতে নগদ অর্থ এবং শুকনা খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন তিনি। এ সময় মানবিক হৃদয়ের সরকারি এই কর্মকর্তা হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। শিশু রাফি পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার সম্রাট বিশ্বাস ও মিনারা বেগম দম্পতির ৩ মাস বয়সী ছেলে। এই দম্পতির ১১ বছর বয়সী আরো একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
শিশু রাফির মা মিনারা বেগম বলেন, আমরা খুব গরিব, অভাবে দিন পার করি। আমার ছেলেকে সুস্থ করতে আমাদের শেষ সম্বল পর্যন্ত দিয়ে চেষ্টা করছি । তাকে চিকিৎসা করাতে এখন আমার কোন উপায় বাকি নাই।ডাক্তার বলেছে উন্নত চিকিৎসা করলে আমার ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। আর এজন্য ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করা প্রয়োজন,কিন্তু সেই সমর্থ্য আমার নেই। তাই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের নিকট আমার আবেদন আমাকে সহায়তা করার জন্য। আজকে ইউএনও স্যার সহায়তা করেছেন। আল্লাহ স্যারকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে দোয়া করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ন্যায় সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে শিশুটিকে বাঁচানো যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, শিশুটিকে বাঁচাতে সবার এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আজকে সরকারি ভাবে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সহায়তা প্রদান করেছি। আগামীতে শিশুটির জন্য কি করা যায় সেটির চেষ্টা করব।


