স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আজ ২৬শে মার্চ। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বাঙালির কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণার দিন—মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ৫৪ বছর আগে এই দিনেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন এক ভোরের স্বপ্নে বিভোর হয়েছিল সমগ্র জাতি। আজ কৃতজ্ঞচিত্তে বাংলাদেশ স্মরণ করছে সেইসব বীর সেনানীদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে লাল-সবুজের পতাকা।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপনে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি প্রান্ত এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত জাতির সূর্য সন্তানদের বরণ করে নিতে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ধোয়া-মোছা, ঘষামাজা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে স্মৃতিসৌধের বেদি ও সিঁড়িগুলো পেয়েছে নতুন রূপ। পুরো চত্বর সুশোভিত বাহারি ফুলের সাজে। সবুজ ঘাসের গালিচা কেটে নান্দনিক করে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা একাধিক মহড়ার মাধ্যমে তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিয়েছেন।
ভোরবেলায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমেই স্মৃতিসৌধের মূল কর্মসূচি শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এরপরই স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য, তখন সেখানে ঢল নামবে লাখো মানুষের।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ ছাড়াও রাজধানী ঢাকা এবং সারাদেশের জেলা-উপজেলাগুলো স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বর্ণিল সাজে সেজেছে। দেড় যুগ পর এবারের স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ার গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। যান্ত্রিক বহরে যুক্ত করা হবে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ভারী যুদ্ধাস্ত্র। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সালাম গ্রহণ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত থাকবেন।
রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন, স্থাপনাসমূহ এবং প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা, রঙিন ফেস্টুন এবং বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা হবে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনসমূহে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল (যেমন: বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী), সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদপরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, শিশুপরিবার এবং বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সব শিশুপার্ক, জাদুঘর এবং বিনোদনমূলক স্থানগুলো শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে।
ফাইল ফটো


