নিজস্ব প্রতিবেদক, দৌলতদিয়া: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি উদ্ধারে চলছে রুদ্ধশ্বাস অভিযান। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে বাসটির সামনের অংশ পানির উপরে টেনে তোলা হয়। আর বাসটির একাংশ ভেসে উঠতেই বেরিয়ে আসতে শুরু করে একের পর এক মরদেহ।

উদ্ধারকাজ চলাকালীন নদীর পাড়ে অপেক্ষমাণ কয়েকশ মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় থাকা মানুষের চোখেমুখে এখন কেবলই প্রিয়জনকে একনজর দেখার আকুতি।

সন্তানের লাশের অপেক্ষায় শরিফুল: সাত বছরের ছেলে ও এগারো বছরের ভাগ্নেকে হারিয়ে দিশেহারা শরিফুল ইসলাম। তার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ছোট ছেলেটি এখনও নিখোঁজ। শরিফুল ডুকরে কেঁদে বলেন, “আমার টাকা লাগবে না, আমার সন্তানের লাশটা শুধু আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।”

বোনের খোঁজে রোকন: ঢাকা যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া ছোট বোন ফাতেমা ও জামাতা সাইফের সন্ধানে বিকেল থেকে ঘাটে অপেক্ষায় আছেন রোকন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার উৎকণ্ঠায় এখনও তাদের কোনো হদিস মেলেনি। বাসের ভেতর আটকা পড়া দুই নাতির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন বৃদ্ধ নবীজ উদ্দিন। তার আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে।

ডুবুরি দল বাসের দরজা ভেঙে ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় একের পর এক স্কুল ব্যাগ, ছোটদের জুতা-স্যান্ডেল এবং নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ ভেসে উঠতে দেখা গেছে। এই চিহ্নগুলোই বলে দিচ্ছিল বাসের ভেতর থাকা যাত্রী ও শিশুদের করুণ পরিণতির কথা।

উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাসের ভেতর থেকে মরদেহগুলো বের করে আনছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেনের সাহায্যে বাসটি পুরোপুরি ডাঙ্গায় তোলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বাসের ভেতর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

ছবি-সংগৃহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *