আজ থেকে দেশজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিরুনি অভিযানের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আজ থেকে দেশজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিরুনি অভিযানের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অষ্টম শ্রেণি পাস ‘দালাল’ যখন অর্থোপেডিক সার্জন সেজে অস্ত্রোপচার করছেন—এমন এক ভয়াবহ তথ্যের ভিত্তিতে আকস্মিক অভিযানে নামলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। সোমবার বিকেলে শ্যামলীর ‘ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক’ পরিদর্শন শেষে সেটিকে অবিলম্বে সিলগালার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে অনিয়মের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, শ্যামলীর ওই হাসপাতালে কোনো ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার চলছিল। হাসপাতালের দালাল এবং চেম্বার সহকারীরাই সেখানে নিয়মিত সার্জন সেজে রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছিলেন।খবরটি জানাজানি হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে হাসপাতালটিতে উপস্থিত হন এবং ভর্তি থাকা রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে অনিয়মের সত্যতা পান।

মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই বিক্ষুব্ধ স্বজনরা তাদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। তাৎক্ষণিক নির্দেশে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের পঙ্গু হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,”আমরা সব নোট করে নিয়েছি। যারা মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন প্রথম ধাপে শ্যামলী থেকে আসাদগেট এলাকার হাসপাতালগুলো দিয়ে শুরু হবে এই অভিযান। একটি নির্দিষ্ট’চেকলিস্ট’ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও সেবার মান যাচাই করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ত্রুটি পাওয়া যাবে, তাদের মানোন্নয়নের জন্য ৭২ ঘণ্টা থেকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। ব্যর্থ হলে সেগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

​বিগত ১৭ বছরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্য সেবার রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে ঘা তৈরি হয়েছে, তা সারাতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সেবাটাকে মানুষের দোড়গোড়ায় এবং উন্নত মানে নিয়ে যেতে।”

উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা নয়, বরং সঠিক মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।ছবি সংগৃহিত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *