মাদ্রাসা সুপারের লালসার শিকার শিশুটি এখন আইসিইউতে

মাদ্রাসা সুপারের লালসার শিকার শিশুটি এখন আইসিইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) :  কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক মাদ্রাসা সুপারের লালসার শিকার হয়ে শিশুটি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই শিশুটি আট মাস আগে ভেড়ামারার চৈতন্য মোড়ে অবস্থিত ‘জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসা’র আবাসিক হলে ভর্তি হয়। মাদ্রাসার দোতলায় ছাত্রীরা থাকত এবং নিচতলায় সপরিবারে থাকতেন একমাত্র পুরুষ শিক্ষক ও মাদ্রাসা সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান। গত রোববার মাদ্রাসা ছুটি হলে শিশুটির মা তাকে নিতে আসেন। তখন সুপারের স্ত্রী জানায়, শিশুটির শরীর খুব খারাপ এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুটির অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) তাকে একবার কেবিনে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। শিশুটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “ঘুমের ঘোরেও মেয়েটি ভয়ে আঁতকে উঠছে। এমন সর্বনাশ যেন আর কারও না হয়।”

সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে এতেকাফ থেকে অভিযুক্ত সুপার সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে সুপারের স্ত্রী মোছা. শামীমা খাতুন ও রিশা খাতুনকেও গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা অভিযোগ করেন, একসময় এই মাদ্রাসায় প্রায় ৪০-৪৫ জন ছাত্রী ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা কমে মাত্র সাতজনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, সুপারের এমন অশুভ আচরণের আঁচ পেয়ে অনেকেই তাদের সন্তানদের সরিয়ে নিয়েছেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *