স্ফুলিঙ্গ ডেক্স : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এবার নতুন ত্রাসের নাম ‘সেজ্জিল-২’। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত যখন ১৬তম দিনে গড়িয়েছে, ঠিক তখনই তেহরান প্রথমবারের মতো ব্যবহার করল তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির হাইপারসনিক ‘ড্যান্সিং ক্ষেপণাস্ত্র’। রোববার (১৫ মার্চ) এই শক্তিশালী সমরাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
কেন একে ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বলা হচ্ছে? সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র একটি নির্দিষ্ট সরল পথে চলে, যা আধুনিক রাডারে সহজেই ধরা পড়ে। কিন্তু ‘সেজ্জিল-২’ বা সাজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। এটি উড্ডয়নের পর আকাশে ক্রমাগত তার উচ্চতা এবং দিক পরিবর্তন করতে পারে। এই ‘জিগ-জ্যাগ’ বা আঁকাবাঁকা গতির কারণেই একে ডাকা হয় ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বা ‘ড্যান্সিং মিসাইল’। এর ফলে কোনো রাডার বা ইন্টারসেপ্টর একে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে না।
প্রযুক্তিগত ক্ষমতা: ১. বিধ্বংসী গতি: শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি বেগে এটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যেতে পারে। ২. পাল্লা: এটি অনায়াসেই ২০০০ কিলোমিটার দূরের যেকোনো টার্গেট ধ্বংস করতে সক্ষম। ৩. বিস্ফোরক: প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক বহন করতে পারে এই দুই ধাপের ক্ষেপণাস্ত্রটি। ৪. জ্বালানি সুবিধা: এটি সলিড বা কঠিন জ্বালানি চালিত, যা যেকোনো স্থান থেকে মুহূর্তের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা যায়।
নিশানায় মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল প্রেস টিভির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেজ্জিল-২ এর এই ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে দিতে পারে। ১৬ মার্চ, ২০২৬
সূত্র-আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা প্রতীকী-ছবি


