রাজধানী ছাড়িয়ে মফস্বলেও জ্বালানি হাহাকার: তেলের লাইনে ফুরিয়ে যাচ্ছে দিন, ক্ষুব্ধ যশোরের চালকরা
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :”পাম্পের পর পাম্প ঘুরছি, কিন্তু কোথাও তেল নেই। আসাদ গেট থেকে শুরু করে মতিঝিল—সবখানে মাইলের পর মাইল লাইন। তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাত্র ৫ লিটার তেল পেলাম। সরকার বলছে মজুত আছে, তাহলে পাম্পের সামনে এই যুদ্ধ কেন?”—রাজধানীর সালাম হোসেনর মতো একই প্রতিধ্বনি এখন যশোরের অলিগলিতেও।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে বিপিসি তেলের সীমা বেঁধে দেওয়ার পর থেকেই সারা দেশে জ্বালানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
যশোরের পাম্পগুলোতে শুনশান নীরবতা, কোথাও দীর্ঘ লাইন
যশোরেও এই সংকটের আঁচ লেগেছে তীব্রভাবে। শহরের মণিহার এলাকা থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক লিমন আক্ষেপ করে বলেন, “আগে ৫০০ টাকার তেল নিতাম একবারে। এখন ১০০-২০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না। লাইনে দাঁড়াতেই অর্ধেক দিন শেষ, ইনকাম করব কখন?”
খুলনা ও রাজশাহীতে ধর্মঘটের আল্টিমেটাম
চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় খুলনায় ইতিমধ্যে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন পাম্প মালিকরা। খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহীর মালিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তারাও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেবেন।
পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল দেওয়া হচ্ছে, ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
বিপিসি ও প্রশাসনের বিপরীতমুখী বক্তব্য
বিপিসি বারবার দাবি করছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বরগুনা বা খুলনার মতো যশোরেও পাম্প মালিকরা বলছেন, তারা চাহিদাপত্র পাঠিয়েও তেল পাচ্ছেন না। অনেক পাম্পে তেল না পেয়ে চালকদের ক্ষোভ ‘মব সন্ত্রাসে’ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যশোরের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলা হলেও, ফিলিং স্টেশনগুলোর দীর্ঘ লাইন ছোট হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তেল যদি সত্যিই মজুত থাকে, তবে বিক্রির সীমা তুলে দিয়ে ভোগান্তি কমানো হচ্ছে না কেন?
১৫ মার্চ, ২০২৬ ফাইল ফটো


