স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : যশোর শহরে ঘোপে চাঁদা না দেওয়ায় এক চা দোকানিকে বাড়ি ফেরার পথে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর ও সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ মার্চ শুরু হওয়া এই বিরোধের জেরে ১১ মার্চ মধ্যরাতে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় শহরের কুখ্যাত কয়েকজন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা হলে রকি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শহরের একতা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ‘মোস্তাক টি-স্টোর’-এর মালিক মুস্তাকিম হোসেনের (২৫) কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল জীবন, টিকটিকি আল-আমিন, মেহেদী হাসান ও রকি নামে স্থানীয় চার যুবক। গত ১০ মার্চ দুপুরে দোকানে এসে তারা ৯ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। মুস্তাকিম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দোকান ভাঙচুর করবে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ঘটনার চরম রূপ নেয় গত ১১ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে। দোকান বন্ধ করে রিকশায় বাড়ি ফেরার পথে ঘোপ বেলতলা এলাকায় পৌঁছালে ওই চার যুবক মুস্তাকিমের পথরোধ করে। তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়ির ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
এসময় সন্ত্রাসীরা মুস্তাকিমের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার ২৫০ টাকা, ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি দামী স্মার্টফোন এবং প্রায় ৪ হাজার টাকার সিগারেট ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে জীবন বাঁচান মুস্তাকিম। পরে তিনি কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওয়াহিদুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামি রকিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য তিন প্রধান আসামি জীবন, টিকটিকি আল-আমিন ও মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


