স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সোশ্যাল মিডিয়ায় আকর্ষনীয় চাকরির বিজ্ঞাপন কিংবা অনলাইনে অল্প পরিশ্রমে বেশি উপার্জনের লোভ—প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে মানব পাচারকারীদের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ডিজিটাল স্ক্যাম। আর এই প্রযুক্তিনির্ভর মানব পাচারের ভয়াল ফাঁদ থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে যশোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বিশেষ আলোচনা সভা।
আন্তর্জাতিক মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে শহরের জাগরণী চক্র সম্মেলন কক্ষে “প্রযুক্তির ফাঁদে প্রতারণা: মানব পাচার প্রতিরোধে করণীয়” শীর্ষক এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সুইজারল্যান্ড এম্ব্যাসি ও উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির রূপরেখা তৈরি করে ‘রূপান্তর’, ‘রাইটস যশোর’ এবং ‘যশোর জেলা কাউন্টার ট্রাফিকিং নেটওয়ার্ক’।
উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন উইনরক ইন্টারন্যাশনালের রিজিওনাল কোঅর্ডিনেটর সুপ্তি দিব্রা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে প্রযুক্তিনির্ভর পাচারের বাস্তব চিত্র বোঝাতে “প্রেরণার আলোকশিখা” নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
কাউন্টার ট্রাফিকিং নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক লিপিকা দাস গুপ্তার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জনাব রফিকুল হাসান। তিনি বলেন, “অনলাইন প্রতারণা রুখতে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই চলবে না; স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে সচেতন হতে হবে।”
সমাবেশে ‘আমরা করবো জয়’-এর নির্বাহী পরিচালক শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন একটি মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন যশোর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী, স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং পাচারের মুখ থেকে ফিরে আসা একজন ভুক্তভোগী (সারভাইভার)।
আলোচকরা জানান, বর্তমানে ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির আশ্বাস দিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে সহজ-সরল মানুষকে। এ ধরনের আধুনিক পাচার রুখতে ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটিকে আরও সক্রিয় করার জোর দাবি জানান বক্তারা। ছবি সংগৃহীত।

