স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের অভয়নগর উপজেলার হিদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম মেম্বারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার দীর্ঘদিনের আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপরাধ ও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সকলেই হিদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে লুৎফর বিশ্বাসের ছেলে হোসেন বিশ্বাস এবং সোলেমান বিশ্বাসের ছেলে নাসির বিশ্বাসকে দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় দেড় বছর (১৮ মাস) করে সশ্রম কারাদণ্ড, নগদ এক হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ইয়ামিন বিশ্বাসকে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের কঠোর আদেশ দেন বিচারক। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও স্থানীয় বিরোধের জের ধরে ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইছামতি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম। পথিমধ্যে ইছামতি ব্রিজসংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার রফিকুল ইসলামের ভাই আব্দুল গফুর মোল্লা বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল মাহমুদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনায় জড়িত ৭ আসামির বিরুদ্ধেই আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আজ বুধবার ৩ জনের সাজা ও ৪ জনের খালাসের রায় চূড়ান্ত করেন। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ছবি সংগৃহীত।

