যশোর-৪ আসনের এমপি গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি

যশোর-৪ আসনের এমপি গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ প্রফেসরপাড়া এলাকার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি প্রশাসনের সময়োচিত উদ্যোগে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ, স্থানীয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়।

ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, অধ্যাপক গোলাম রসুল দীর্ঘ দিন ধরে নীলগঞ্জ এলাকায় অত্যন্ত সুনাম ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বসবাস করছেন। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে থেকেই একজন শিক্ষক ও প্রবীণ সমাজসেবক হিসেবে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও সব সময় তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

অভাবনীয় এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে এক পারিবারিক মানবিক সংকট। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যের কন্যা দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র মানসিক রোগে ভুগছেন এবং একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের গভীর নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে তাঁর আচরণ মাঝে মাঝে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সকালে এমন একটি অবুঝ পারিবারিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ালে কিছু অতিউৎসাহী লোক সংগঠিত হয়ে এমপির বাসভবনে অতর্কিতে হামলার ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণ, স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে এমপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামান্য একটি মানবিক দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল ও পরিবেশ ঘোলাটে করতে একটি বিশেষ ‘তৃতীয় পক্ষ’ চতুরতার সাথে উসকানি দিয়েছিল।

বৈঠক শেষে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমি সার্বজনীন ও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আমি সব দলের মানুষের এমপি। একটি ছোট পারিবারিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে কোনো সংঘাত সৃষ্টি হোক, তা আমি কখনো বরদাশত করি না। যারা জল ঘোলা করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে, তাদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি অত্যন্ত সুচারুভাবে সমাধান হওয়ায় আমি স্বস্তি প্রকাশ করছি।”

উল্লেখ্য, ঘটনার পর দিন মঙ্গলবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং বিচার দাবিতে সিভিল কোর্ট মোড় থেকে মনিহার পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অবশেষে প্রশাসনের তৎপরতায় অমীমাংসিত বিষয়ের সুরহা হওয়ায় পুরো এলাকায় স্বস্তিদায়ক ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *