হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা : অবরুদ্ধ সারজিস উদ্ধার

হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা : অবরুদ্ধ সারজিস উদ্ধার

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপি ও জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে শহরের প্রধান সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে এনসিপি আয়োজিত এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হন। বহরটি শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জিপ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। চালক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পরবর্তীতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান।

অন্যদিকে, বহরের পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িটিকেও ধাওয়া ও লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। আত্মরক্ষার্থে তাঁর গাড়িটি দ্রুত সোনালী ব্যাংক কার্যালয়ে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সোনালী ব্যাংক ভবনটি ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং সারজিস আলমকে নিরাপদে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে।

এ অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনকে সরাসরি দায়ী করেছেন এনসিপি নেতারা। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জানান, এনসিপি নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যার জেরে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে সার্কিট হাউস এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *