স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এক ভাড়াটিয়া তরুণীকে কুপ্রস্তাব ও ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, তাকে একটি ধানের মিলে অবরুদ্ধ করে রেখে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের বালিয়াকান্দা এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অবরুদ্ধ দশা থেকে জীবন বাঁচাতে ভুক্তভোগী তরুণী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করলে সিরাজদিখান থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্ত তামিমসহ মোট ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দা এলাকার তারা মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে আসার পর থেকেই বাড়ির মালিকপক্ষের নাতি তামিম (১৮) ও তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত, কুপ্রস্তাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে তামিম সুকৌশলে তরুণীর ফোন নম্বর ও ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেয় এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তরুণীটি নিরুপায় হয়ে বিষয়টি বাড়ির এক বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যকে জানালেও কোনো বিচার পাননি, উল্টো তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে, যখন অভিযুক্তরা তরুণীর ঘরের বাইরে আপত্তিকরভাবে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় আসামিরা ভুক্তভোগীর চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে রাস্তায় ফেলে মারধর করে।
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই দুপুরে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ওই তরুণীর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে ভাড়া বাসায় ঢুকতে না দেওয়া এবং তার সমস্ত আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওইদিনই দুপুরে তাকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে স্থানীয় এক ধানের মিলে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং পুনরায় পিটিয়ে জখম করা হয়।
যে ধানের মিলে তরুণীকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটির মালিক মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমের কাছে এক বিতর্কিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি মুন্সীগঞ্জে ছিলাম। একটা খারাপ মেয়েকে মারছে, তাতে কী হয়েছে? বিষয়টি আমি এমপি সাহেবকেও জানিয়েছি।” তাঁর এমন সংবেদনহীন মন্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছি। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।


