স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
গোপালগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে দায়েরকৃত পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান পলাতক আসামি রবিউল তালুকদারকে (৩৫) যশোরে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) রাতে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্প এবং ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একটি সমন্বিত ও অত্যন্ত নিখুঁত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আইনগত হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভূতূড়িয়া গ্রামের ফায়েক তালুকদারের পুত্র। র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক (কমান্ডার) মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স এই সফল অভিযানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আসামি রবিউলের এক প্রতিবেশী দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে রবিউল ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। লম্পট রবিউলের অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সে ভুক্তভোগী নারীর কিছু ব্যক্তিগত ও গোপন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে।
একপর্যায়ে গত ২৮ জুন দুপুরে রবিউল ওই নারীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত তাঁর স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং মোটা অঙ্কের (৩০ হাজার টাকা) চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে এসব ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেয় সে। এই ঘটনায় চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ভুক্তভোগী নারী গত ২ জুলাই কোটালীপাড়া থানায় রবিউল তালুকদারকে একমাত্র আসামি করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামি রবিউল এলাকা ছেড়ে কৌশলে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় এলিট ফোর্স র্যাব। লম্পট রবিউল যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়া এলাকার ‘ননীফল কবিরাজ’ হিসেবে পরিচিত খন্দকার কবিরের নার্সারিতে ছদ্মবেশে আত্মগোপন করে আছে—এমন নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের চৌকস দল সেখানে আকস্মিক হানা দেয়। র্যাবের এই দ্রুত ও পেশাদারী অভিযানের কারণে আসামি পালানোর কোনো সুযোগই পায়নি।
অপরাধ দমনে এবং সাইবার অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করতে র্যাবের এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সফল ব্যবহার ও নিখুঁত সমন্বিত অভিযান স্থানীয় সচেতন মহলে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। গ্রেফতারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে রবিউলকে কোটালীপাড়া থানা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

