আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি অঙ্গরাজ্যের একমাত্র স্থল সংযোগ ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ এর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছে নয়াদিল্লি। নেপাল ও বাংলাদেশের মাঝামাঝি এবং ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তের অত্যন্ত নিকটবর্তী এই করিডরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার, যার সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। এই করিডরের সামান্যতম নিরাপত্তা ঝুঁকিও ভারতের জাতীয় অখণ্ডতার জন্য বড় হুমকি। আর এই কারণেই সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঢেলে সাজাতে আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) রাতেই শিলিগুড়ি সফরে যাচ্ছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
আগামীকাল শনিবার (১৮ জুলাই) শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যায়’ (পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শাখা সচিবালয়) একটি উচ্চপর্যায়ের মেগা নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য, বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও চীনকে ঘিরে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক দ্রুত পরিবর্তন ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে, শিলিগুড়ি করিডর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের লালমনিরহাটের পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিটি উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে চীন। এর পাশাপাশি, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে শিলিগুড়ি করিডর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা তিস্তা নদীর অববাহিকায় চীনের এই বিশাল অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপের পরিকল্পনাকে ভারতের প্রতিরক্ষা দপ্তর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও নজরদারি বাড়ানোর জন্য বিএসএফ-এর কাছে দ্রুত জমি হস্তান্তর শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভারত সরকার এই করিডরে অতিরিক্ত ও ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ, বাগডোগরা বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন এবং রাফাল যুদ্ধবিমান সমৃদ্ধ হাসিমারা বিমানঘাঁটি আরও শক্তিশালী করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজও চলছে।
সফরের অংশ হিসেবে অমিত শাহ আজ রাতে বিএসএফ-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার সদর দপ্তরে অবস্থান করবেন। আগামীকাল শনিবার সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন, জওয়ানদের সাথে মতবিনিময় এবং উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে উত্তরকন্যায় একাধিক বিশেষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। এই বৈঠকে সীমান্তে চোরাচালান ও বেড়া নির্মাণের অগ্রগতির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে নতুন ‘গুন্ডা আইন’-এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


