স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পারিবারিক কলহ ও তুচ্ছ ঘটনার জেরে আছমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার ক্লুলেস মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক স্বামী ও মসজিদের ইমাম মুহাসিন মাতুব্বরকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে তারা। গ্রেপ্তারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মামলার বিবরণী ও পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বলিয়াগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বলিয়াগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানসহ বসবাস করতেন আছমা আক্তার ও তার স্বামী ইমাম মুহাসিন মাতুব্বর। আছমার পূর্ববর্তী একটি বিবাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতির মধ্যে চরম পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত ৫ জুলাই রাতেও তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
পরদিন ৬ জুলাই সকালে ঘরে নাস্তা প্রস্তুত না থাকা নিয়ে পুনরায় তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মুহাসিন তার স্ত্রী আছমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং সজোরে ধাক্কা দেন। এতে আছমা ঘরের ভেতরের একটি কাঠের পাটাতনের ওপর ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। আছমা অচেতন হয়ে পড়লে ঘাতক মুহাসিন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তা করতে ব্যর্থ হয়ে আছমার নিথর মরদেহ খাটের ওপর ফেলে রেখে চার বছরের কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর নিহতের ভাই মো. শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত শুরু করে এবং পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি চৌকস আভিযানিক দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে গত ৭ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মুহাসিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের খাস কামরায় আছমা আক্তারকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আইনি তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

