৪৬ পিস ইয়াবাসহ দুই ইউপি সদস্যসহ ৪ মাদক কারবারি আটক

৪৬ পিস ইয়াবাসহ দুই ইউপি সদস্যসহ ৪ মাদক কারবারি আটক

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ দুই বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ মোট চারজন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।  আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কায়বা সীমান্তের চন্দনপুর কলেজ মোড় এলাকা থেকে ২১ বিজিবির একটি চৌকস টহল দল এই ইয়াবাসহ তাঁদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়।

বিজিবি ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আটককৃত আসামিদের মধ্যে দুজন হাইপ্রোফাইল জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। আটকরা হলেন— সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া এলাকার মৃত ইমানুর রহমানের ছেলে ইউপি সদস্য মোস্তফা কবির ফারুক (৪৭), একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৪৩), একই উপজেলার কাদপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দীন (৩৮) ও একই এলাকার সামছুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। জনপ্রতিনিধিদের এমন মাদক কারবারে জড়িত থাকার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বিজিবি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত এই সীমান্ত এলাকায় একটি চক্র চোরাচালানি মালামাল ও মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে এমন খবর ছিল। এর প্রেক্ষিতে বিজিবি’র সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারী ও নিয়মিত টহল তৎপরতা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে শার্শার কায়বা সীমান্তের কৌশলগত চন্দনপুর কলেজ মোড় এলাকায় একটি বিশেষ চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। অভিযান পরিচালনাকালে ওই মোড়ে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে অবরুদ্ধ করে তল্লাশি চালানো হয় এবং তাদের হেফাজত থেকে ৪৬ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করে উক্ত ৪ আসামিকে আটক করা হয়।

২১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটককৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট কায়দা অনুযায়ী তাদেরকে শার্শা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন যে, দেশের সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধে বিজিবি সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ (শূণ্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করে কাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *