স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে চিপস, চকলেট ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিকৃত যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। আজ রোববার (৫ জুলাই) সকালে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। গ্রেফতারকৃত নারায়ণ চন্দ্র রায় উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের কুমারগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে গত শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজারহাট থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় ভুক্তভোগী শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা (দাদু) হন। এই পারিবারিক ও সামাজিক সরল সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সঙ্গে এক ধরনের কৃত্রিম সখ্য গড়ে তোলেন। চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায়শই তিনি শিশুটিকে কোলে নেওয়া বা দোকানে নিয়ে যাওয়ার বাহানায় নিজের কাছে ডাকতেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবুঝ শিশুটিকে ফুসলিয়ে তিনি প্রায়ই নিজের ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং হাত-পা টিপিয়ে নেওয়ার অজুহাতে তার ওপর বিকৃত যৌন নিপীড়ন চালাতেন। লোকলজ্জা ও চরম ভয়ের কারণে অবুঝ শিশুটি বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
সর্বশেষ গত ১৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় শিশুটিকে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে হাত-পা টেপানোর একপর্যায়ে শিশুটির ওপর চরম যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় শিশুটি প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথায় চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত বৃদ্ধ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য কঠোর হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। নির্যাতনের শিকার শিশুটি বাড়িতে ফিরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। একপর্যায়ে মায়ের নিবিড় জেরার মুখে শিশুটি তার সাথে ঘটে যাওয়া সব অমানবিক নির্যাতনের কথা খুলে বলে।
এই ঘটনা ফাঁসের পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি ধর্মীয় উপাসনালয় কমিটির সভাপতির এমন বিকৃত লালসার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “শিশু নির্যাতনের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে একটি সুনির্দিষ্ট এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আজ দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।

