স্ত্রী-শাশুড়িসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করলো জামাতা

স্ত্রী-শাশুড়িসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করলো জামাতা

রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে :

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গভীর রাতে একই পরিবারের চারজন সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে তিন অসহায় নারী ও এক তরুণ রয়েছেন। গত রবিবার (১৪ জুন) রাত ১১টার দিকে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের সলেমানপুর কারিগরপাড়া গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত ঘাতককে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছে।

রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন—জাহিদা বেগম (৫৫), রুমা খাতুন (৩৮), লাভলী খাতুন (২৯) এবং তরুণ রিফাত (১৯)। তাঁরা সবাই সলেমানপুর গ্রামের কারিগরপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আহতরা সম্পর্কে অভিযুক্তের আপন স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালিকা এবং নিজের সন্তান।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোটচাঁদপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের করিম সর্দারের ছেলে অহিদ দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে সলেমানপুর গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চরম বিরোধ ও কলহ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে পারিবারিক কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অহিদ আচমকা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে পরিবারের সদস্যদের ওপর উন্মত্তের মতো হামলা চালান। তাঁর এলোপাতাড়ি কোপে চারজনই মারাত্মকভাবে জখম হয়ে রক্তক্ষরণের মুখে পড়েন।

চিত্কার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্তদের উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত চারজনের মধ্যে তিনজনেরই মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর ও মারাত্মক ক্ষত রয়েছে। উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ শেষে তাঁদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় উন্নত ও জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রাতেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত অহিদ চরম মাদকাসক্ত এবং নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করত। তাঁর এই নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে।

কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনসারউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত অহিদকে পুলিশের হেফাজতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের প্রক্রিয়া জোরেশোরে চলছে। এই নৃশংস ঘটনার পর সলেমানপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *