ধর্মীয় প্রচারের পাশাপাশি ইমামদের উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান

ধর্মীয় প্রচারের পাশাপাশি ইমামদের উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

বর্তমান সমাজ সংস্কার, যুবসমাজের নৈতিকতার অবক্ষয় রোধ এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ইমাম ও খতিবদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেছেন, কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইমাম সমাজকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় দীক্ষিত হতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনেও তারা খতিবদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জেলা পর্যায়ের ইমাম সম্মেলন-২০২৬’-এ উপস্থিত বক্তারা এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

ঐতিহাসিক এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আবুল হাসান। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন যশোর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফিল্ড অফিসার মো. ইজাজুল ইসলাম এবং যশোর জেলা মডেল মসজিদের সম্মানিত খতিব মাওলানা মো. মঈনুদ্দীন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে পরিচালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাস্টার ট্রেইনার মাওলানা আশরাফ হোসেন।

সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে, এবারের জেলা ভিত্তিক এই বৃহৎ আয়োজনে যশোর জেলার মোট আটটি উপজেলা থেকে অন্তত দেড় শতাধিক শীর্ষস্থানীয় ইমাম ও খতিব অংশ নেন। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় উল্লেখ করেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে ইমামদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি, মৎস্য চাষ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গবাদিপশু পালনের মতো বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের মধ্য থেকে তাঁদের কর্মদক্ষতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও যোগ্যতার তুলনামূলক মূল্যায়ন করে প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ ইমাম নির্বাচন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় এবারের বার্ষিক সম্মেলনে তিনজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত এই তিন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব পরবর্তী ধাপে খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে তাঁরা সফল হলে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত মূল্যায়নে অবতীর্ণ হওয়ার এবং জাতীয় পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করার সুযোগ পাবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের আধুনিক বিশ্বে তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই যুগে ইমাম সমাজকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কম্পিউটার ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ইমামরা যদি গ্রামীণ স্তরে কৃষি ও পশুপালনের মতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন, তবে দেশের তৃণমূল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সভাপতির বক্তব্যে উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, ইমামদের সমাজে আত্মনির্ভরশীল নেতৃত্ব হিসেবে দাঁড় করানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ইমামরা বিভাগীয় ও জাতীয় মঞ্চে যশোরের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সম্মেলন শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *