যশোরে অসুস্থ শিশুর পাশে একঝাঁক তরুণ

যশোরে অসুস্থ শিশুর পাশে একঝাঁক তরুণ

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের শহরতলী ঝুমঝুম্পুর এলাকার এক গুরুতর অসুস্থ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ওষুধ ক্রয়ের ব্যয়ভার বহনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় একটি অরাজনৈতিক সমাজ কল্যাণ সংগঠন। আজ সোমবার সংগঠনের একদল তরুণ ও মানবিক নেতৃবৃন্দ অসুস্থ শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং অসহায় পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। অর্থাভাবে শিশুটির থমকে যাওয়া চিকিৎসা সচল রাখতে সংগঠনটি আগামী ২০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. জুবায়ের হোসেন নামের ওই শিশুটি স্থানীয় ঝুমঝুম্পুর মোহাম্মাদিয়া হাফেজিয়া বালক-বালিকা কওমী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। তার পিতা মো. মুজাম্মেল হোসেন পেশায় একজন সাধারণ ভ্যানচালক এবং মাতা মনিরা বেগম গৃহিণী। দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত জুবায়েরের চিকিৎসা ও নিয়মিত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪২ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। ভ্যান চালিয়ে অর্জিত যৎসামান্য আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই পরিবারের পক্ষে প্রতি মাসে এত বিপুল পরিমাণ চিকিৎসার খরচ বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না, যার ফলে জুবায়েরের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

অসহায় পিতা মো. মুজাম্মেল হোসেন চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে জানান, সন্তানের জীবন বাঁচাতে তিনি নিজের সবটুকু চেষ্টা করেছেন। এখন চিকিৎসা সচল রাখতে সমাজের বিত্তবান, দয়ালু ও মানবিক ব্যক্তিদের সামান্যতম আর্থিক সাহায্যও তাঁর নিষ্পাপ সন্তানের সুস্থ হয়ে বেঁচে ওঠার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখবে।

অসুস্থ শিশুকে দেখে আসার পর সমাজ কল্যাণ সংগঠনটির সভাপতি আল-আমিন ইসলাম সামি গণমাধ্যমকে বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এই সংকটাপন্ন পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আগামী ২০ জুন সংগঠনের সকল সদস্যদের নিজস্ব তহবিল থেকে সংগৃহীত একটি বিশেষ আর্থিক অনুদান শিশুটির বাবার হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে সাময়িকভাবে হলেও তার ওষুধ কেনা বন্ধ না হয়।

পরিদর্শনকালে সংগঠনের একঝাঁক তরুণ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে অন্যতম সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুবায়ের রহমান, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এম এম হাসনাতুল ইসলাম রাতুল, প্রচার সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম হিমেল এবং সহ-সদস্য সচিব তাসনিমুল হাসানসহ অন্যান্য সমাজকর্মী বৃন্দ।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সচেতন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে যশোর এলাকায় দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক-মানবিক সংকট মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে কার্যনির্বাহী কমিটিসহ সংগঠনটিতে ৩০ জন সক্রিয় তরুণ সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে ভবিষ্যতে পুরো দেশজুড়ে তাদের এই মানবিক ও সেবামূলক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার স্বপ্ন রয়েছে বলে সংগঠনের নীতি-নির্ধারকেরা জানিয়েছেন।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *