স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আসা একটি বাণিজ্যিক চালানে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে আনা বিপুল পরিমাণ শাড়ি ও কসমেটিকস (প্রসাধন সামগ্রী) আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আমদানিকৃত পণ্যের মূল নথির সাথে কায়িক পরীক্ষার গরমিল পাওয়ায় এই অবৈধ চালানটি জব্দ করা হয়। গত ১৪ জুন রাত ৯টার দিকে বন্দরের অভ্যন্তরীণ ২৬ নম্বর শেডে এই বিশেষ রাজস্ব তদারকি ও পরীক্ষামূলক অভিযান পরিচালিত হয়। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে এই ঘোষণা বহির্ভূত পণ্যগুলো আনা হয়েছিল বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঢাকাস্থ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘টিএস ইন্টারন্যাশনাল’ ভারত থেকে ৩২৬টি প্যাকেজে মোট ১১ হাজার ৬৮৭ কেজি ‘কালার পেন্সিল অ্যান্ড আদার্স’ (রং পেন্সিল ও অন্যান্য সামগ্রী) আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। পণ্য খালাসের জন্য নিয়ম অনুযায়ী বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হলে কাস্টমসের একটি বিশেষ টিম সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ নম্বর শেডে রক্ষিত ওই চালানটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কায়িক পরীক্ষা (এক্সামিন) শুরু করে।
পরীক্ষা চলাকালীন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মূল ঘোষণার বাইরে থাকা অতিরিক্ত আরও ৫০টি প্যাকেজের সন্ধান পান। পরবর্তীতে ওই প্যাকেজগুলো খোলা হলে তার ভেতর থেকে মোট ১ হাজার ৬১২ কেজি বিভিন্ন আধুনিক কসমেটিকস সামগ্রী এবং আকর্ষণীয় ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির মূল কাস্টমস ঘোষণাপত্র বা ইনভয়েসের কোথাও উল্লেখ ছিল না, যা সরাসরি কাস্টমস আইনের চরম লঙ্ঘন এবং শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা।
ঘোষণা বহির্ভূত ও নিষিদ্ধ উপায়ে পণ্য আমদানির মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির চেষ্টা করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘টিএস ইন্টারন্যাশনাল’ এবং পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট ‘কাব্বি এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে কাস্টমস অ্যাক্ট অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি রোধে বেনাপোল বন্দরে আগামী দিনগুলোতেও এমন কড়াকড়ি ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে কাস্টমস প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

