স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুদের নিয়োগ ও ব্যবহারের প্রতিবাদে যশোরে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), যশোর ইউনিটের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর কাজে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সোচ্চার হন যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
“বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে লাল কার্ড”—এই জোরালো স্লোগান ও প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সনাক-এর যশোর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী। সমাবেশে বক্তারা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও অধিকার রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরেন।
বক্তব্য প্রদানকালে বিশিষ্টজনেরা বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হচ্ছে শিশুশ্রম। বিশেষ করে বর্জ্য সংগ্রহ, ময়লা পৃথকীকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মতো বিপজ্জনক কাজগুলোতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুকে নামমাত্র মজুরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা কেবল শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই হুমকি নয়, বরং এটি দেশের প্রচলিত আইনেরও চরম লঙ্ঘন। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশা শিশুদের শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ থেকে স্থায়ীভাবে ছিটকে দিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
সমাবেশ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাত থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করা, বিদ্যমান জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী হালনাগাদ করা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ সময় বক্তারা শিশুশ্রমবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আধঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিশুদের হাতে ডাস্টবিনের ঝুড়ি নয়, বরং বই-খাতা তুলে দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। এই লক্ষে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

