স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় এক শ্রমজীবী ভ্যানচালককে সুকৌশলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে তাঁর উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি লুটে নিয়েছে এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী। আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত রাজনগর বাঁকাবরশী গ্রামের রাস্তার ধার থেকে ওই চালককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা। যাত্রীবেশে চোরচক্রের এমন অভিনব প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী চালকের নাম দ্বীন ইসলাম (৫৫)। তিনি কেশবপুরের বায়সা নূরপুর গ্রামের মৃত দানেস মোড়লের সন্তান। স্থানীয়রা জানান, দ্বীন ইসলাম কেবল ভ্যান চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতেন না, পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনিকের প্রচারণার জন্য ভ্যানে মাইকিং করার কাজও করতেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১৪ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কেশবপুর বাজার এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি যাত্রী সেজে দ্বীন ইসলামের ভ্যানটি ভাড়া করে পাঁজিয়া এলাকার দিকে রওনা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা দুশ্চিন্তায় পড়েন এবং সারা রাত সম্ভাব্য সব স্থানে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর কোনো হদিস পাননি। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজনগর বাঁকাবরশী গ্রামের শ্যামল কপালীর বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে স্থানীয় লোকজন এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে শনাক্ত করা হয় যে তিনি নিখোঁজ হওয়া দ্বীন ইসলাম।উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, যাত্রীবেশী ওই ছিনতাইকারী পথিমধ্যে চালককে সুকৌশলে চেতনানাশক বা মাদকদ্রব্য মেশানো কোনো খাদ্য কিংবা পানীয় খাইয়ে দেয়। চালক সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাঁকে নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা তাঁর ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল ও শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
কেশবপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুরির এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ছিনতাইকৃত ভ্যানটি উদ্ধার এবং জড়িত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। জনসমাগমস্থলে অপরিচিত যাত্রীদের দেওয়া কোনো কিছু পান বা আহার করার ক্ষেত্রে চালকদের আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


