স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আসন্ন কর্মী সভাকে কেন্দ্র করে যশোর জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরণের ফাটল ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে. জেলা নেতাদের না জানিয়ে কেন্দ্র থেকে একতরফাভাবে কর্মসূচি দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় নির্ধারণে আজ এক জরুরি সাংগঠনিক সভা করেছে জেলা জাপা।
আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় যশোর শহরের বড়বাজার গোহাটা রোডে অবস্থিত সিটি প্লাজার সামনে জেলা জাতীয় পার্টির প্রধান কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় ও সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ জুন সকাল ১০টায় যশোরের ঐতিহ্যবাহী ‘বিডি হলে’ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুর সবুর আসুদ একটি বিশেষ কর্মী সভার ডাক দিয়েছেন । তবে অভিযোগ উঠেছে, জেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের সাথে কোনো প্রকার পরামর্শ বা সমন্বয় ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে এই হল ভাড়া এবং কর্মী সভার সব ধরণের তোড়জোড় করা হয়েছে। জেলা নেতাদের পুরোপুরি বাইপাস করে কেন্দ্রের এমন একমুখী আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েই আজকের এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়।
জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জরুরি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী । সভায় জেলা নেতাদের অবমূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, জেলা নেতাদের পাশ কাটিয়ে মীর আব্দুর সবুর আসুদের এককভাবে কর্মী সভা ডাকার এই পুরো বিষয়টি অনতিবিলম্বে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় শীর্ষ হাইকমান্ডকে (চেয়ারম্যান ও মহাসচিব) লিখিতভাবে অবহিত করা হবে। কেন্দ্র থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়ার পরেই কেবল জেলা নেতারা ২০ জুনের ওই কর্মী সভায় অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে তাদের শেষ সিদ্ধান্ত জানাবেন।
জরুরি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এবং নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। তাঁরা জানান, এই কর্মী সভাকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অলরেডি একটি প্রকাশ্য বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্র যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে সমাধান না করে, তবে যশোরে জাতীয় পার্টির ভেতর বড় ধরণের সাংগঠনিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। ছবি সংগৃহীত।

