যশোরে আদালত চত্বরে ইজিবাইক চালককে অজ্ঞান করে গাড়ি ছিনতাই

যশোরে আদালত চত্বরে ইজিবাইক চালককে অজ্ঞান করে গাড়ি ছিনতাই

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের বুকে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির বিষাক্ত থাবা। এবার জেলা আদালত চত্বরের ভেতরে বাবর আলী (৬২) নামে এক প্রবীণ ইজিবাইক চালককে বিষাক্ত চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে তাঁর ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত এক চক্র। আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬) ভোরে এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী চালক বাবর আলী যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহনী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত রওশন আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার ভোর ৫টার দিকে বাবর আলী প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে নিজের ইজিবাইকটি নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। ধারণা করা হচ্ছে, পথিমধ্যে যাত্রীবেশে কোনো ছিনতাইকারী চক্র তাঁর ইজিবাইকে ওঠে এবং কৌশলে তাকে কোনো চেতনানাশক বা বিষাক্ত কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে।

পরবর্তীতে সকালের দিকে যশোর শহরের আদালত চত্বরের ভেতরের ফাঁকা জায়গায় ওই বৃদ্ধ চালককে অচেতন ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় পথচারীরা। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উপস্থিত লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন।

 জাতীয় জরুরি সেবা থেকে খবর পাওয়া মাত্রই যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা অচেতন বাবর আলীকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষাক্ত দ্রব্যের প্রভাব কেটে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে বাবর আলীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের দাবি, অজ্ঞাতনামা পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রটি বাবর আলীকে পরিকল্পিতভাবে অচেতন করে তাঁর উপার্জনের একমাত্র সম্বল ইজিবাইকটি নিয়ে চম্পট দিয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশের বিশেষ টিম পুরো বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে। আদালত চত্বর ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের শনাক্ত এবং ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধারের লক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।ফাইল ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *