স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুর পৌরসভা গরুর হাটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অভিনব কায়দায় চুরির সঙ্ঘবদ্ধ চক্র ‘অজ্ঞান পার্টি’। হাটে আসা এজাহার আলী (৬৫) নামে এক নিরীহ বৃদ্ধ খামারিকে কৌশলে অচেতন করে তাঁর সাথে থাকা গরু বিক্রির নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং দুটি মূল্যবান মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) দুপুরের দিকে মণিরামপুর পৌরসভার প্রধান গরুর হাটের ভেতরে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী এজাহার আলী মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবু বকর বিশ্বাসের ছেলে।
জানা যায়, আজ দুপুর ১টার দিকে তিনি তাঁর নিজের পালিত গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে মণিরামপুর পৌর গরুর হাটে যান। হাটের জনাকীর্ণ পরিবেশের মধ্যে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টির চক্র তাঁর পিছু নেয় এবং কৌশলে নানামুখী কথার ছলে তাকে বিষাক্ত বা চেতনাধনাশক কিছু খাইয়ে দেয়।
খাবারের কিছুক্ষণের মধ্যেই এজাহার আলী হাটের মধ্যে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই সুযোগে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাঁর পকেটে থাকা গরু বিক্রির নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং সাথে থাকা দুটি মোবাইল ফোন (একটি দামি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন) লুটে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে চম্পট দেয়।
পরবর্তীতে হাটের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ওই বৃদ্ধকে দীর্ঘক্ষণ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাঁর পরিবারকে খবর দেয়। স্বজনরা দ্রুত হাটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃদ্ধের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাটের প্রকাশ্য দিবালোকে এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় মণিরামপুর উপজেলার সাধারণ খামারি ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা বিরাজ করছে। এই বিষয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই চক্রটিকে ধরতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞান পার্টির কোনো সদস্যকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। ছবি সংগৃহীত।


