আম-কাঁঠালের মধুর সুবাসে সৌহার্দ্যের বন্ধন

আম-কাঁঠালের মধুর সুবাসে সৌহার্দ্যের বন্ধন

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরে অত্যন্ত আনন্দঘন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম যশোর’-এর বার্ষিক মৌসুমী ফল উৎসব-২০২৬। নতুন প্রজন্মের মাঝে নানাবিধ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ফোরামে যুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করা হয়।

আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) যশোরের একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম যশোরের সম্মানিত সভাপতি এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসি-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) জনাব শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী, গবেষক, ব্যাংকার ও শিক্ষাবিদদের এক মিলনমেলা বসে। অনুষ্ঠানে ফোরামের কার্যক্রম ও গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনা ও মতবিনিময়ে অংশ নেন— বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ তবিবুর রহমান, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আহসানুল কবির মুক্ত, মোঃ হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, গবেষক ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, ড. আলম হোসেন, যশোরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন দিলশান এবং আব্দুল গনিসহ ফোরামের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অসংখ্য সাধারণ সদস্যবৃন্দ।

 ফল উৎসবের মূল আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, “আমাদের রূপসী বাংলাদেশের হরেক রকমের মৌসুমী ফল শুধু অতুলনীয় পুষ্টিগুণ ও স্বাদে অনন্য নয়, বরং এগুলো আমাদের দেশের গৌরবময় কৃষি ঐতিহ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদেশি রাসায়নিকযুক্ত ফলের চেয়ে দেশীয় খাঁটি ফলের ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব, অন্যদিকে দেশের প্রান্তিক ফল চাষি ও কৃষকদেরও আর্থিকভাবে বড় আকারে উৎসাহিত করা সম্ভব।”

দিনব্যাপী এই উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশর ঐতিহ্যবাহী বাহারি মৌসুমী ফলের সমাহার। উৎসবে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, লটকন ও জামরুলসহ হরেক রকমের দেশীয় মৌসুমী ফল আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করা হয়। ফোরামের সদস্যরা আনন্দঘন পরিবেশে ফল উপভোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের ভেষজ গুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ও ফলভিত্তিক বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নিজেদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও স্মৃতিচারণমূলক মতবিনিময় করেন।

প্রাণবন্ত আড্ডা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং আন্তরিক স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়। সমাপনী বক্তব্যে ফোরামের নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে সদস্যদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে জেলাজুড়ে এই ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নানামুখী জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *