স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় একটি পুকুরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে হালিমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে দেশীয় লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বুড়িন্দিয়া গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত হালিমা খাতুন বুড়িন্দিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও আঘাত নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের একটি পুকুরে মাছ ধরা ও তার মালিকানা নিয়ে বুড়িন্দিয়া গ্রামের মিলনের পরিবারের সাথে একই গ্রামের প্রভাবশালী আনিসুর, কবির ও আজিজুলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আজ বিকেলে ওই পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হালিমা খাতুন বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনিসুর, কবির ও আজিজুল দেশীয় লাঠিসোঁটা ও শক্ত কাঠ নিয়ে হালিমা খাতুনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলফোলা ও রক্তাক্ত জখম করে। হালিমা খাতুনের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়ে।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হালিমা খাতুনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত নারীর শরীরে লাঠির আঘাতের গুরুতর চিহ্ন রয়েছে, তাকে এক্স-রেসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে নারী ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বুড়িন্দিয়া গ্রামে এক নারীকে মারধরের বিষয়টি আমরা অবগতি হয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ফাইল ছবি।

