যশোরে এবার জমকালো ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’
স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
উৎসবের শহর যশোরে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে যশোর কালেক্টরেট ভবনের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে শোভাযাত্রায় মুখে কোনো মুখোশ পরা যাবে না।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে টাউন হল ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যার আগেই জেলার সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে হবে। সন্ধ্যার পর কোনো উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করা যাবে না।
এবারের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখে কোনো মুখোশ পরতে পারবেন না। তবে লোকজ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে প্রতিকৃতি বা প্ল্যাকার্ড হিসেবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। এছাড়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গল, জোয়াল, গরুর গাড়ি ও মাথালসহ কৃষিজীবী মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ নানা উপকরণে সাজানো হবে এবারের এই বর্ণিল মিছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার সভায় জানান, যানজট নিরসন ও জননিরাপত্তায় পুলিশ বিভাগ সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নববর্ষ উপলক্ষে যশোর জেনারেল হাসপাতাল, জেলখানা ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। এছাড়া শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে শিশু একাডেমি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ঘোষণা দিয়েছেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনকারী প্রতিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “যশোরের পহেলা বৈশাখ সবসময়ই নান্দনিক। আমরা চাই আবহমান বাংলার রূপ শোভাযাত্রায় ফুটিয়ে তুলতে।”
ছবি-সংগৃহীত


