মো. ওমর ফারুক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাকে ২০২১ সালেই ‘শতভাগ বিদ্যুতায়িত’ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি সেই নথির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবার গত ৪ বছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত রয়েছে। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ এই কলাপাড়ায় উৎপাদিত হলেও ঘরের

পাশে আলো নেই এই গ্রামগুলোতে।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী, উত্তর চরপাড়া ও ইসলামপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার আজও বিদ্যুতের মুখ দেখেনি। দৃশ্যত উন্নয়নের মহোৎসবে এই গ্রামগুলো যেন এক অন্ধকার দ্বীপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণার এতদিন পরেও কেন তারা অন্ধকারে, এর কোনো সদুত্তর নেই কারো কাছে।
পশ্চিম মধুখালী গ্রামের টাও
য়ার রোড এলাকার বাসিন্দা আবু ইউসুফ আকন জানান, তাদের বাড়ির আশেপাশে অন্তত ১০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন। খুঁটি বসানোর নাম করে ঠিকাদাররা তাদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার করে টাকা নিলেও তিন বছর ধরে কাজ ঝুলে আছে। খুঁটি পোঁতা হলেও তার টানানো হয়নি। গ্রামটিতে প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবার এই ভোগান্তিতে রয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় কুপি ও হারিকেনই এখন ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা। আরামগঞ্জ মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সিয়াম জানায়, রাত হলেই তাদের কেরোসিনের ল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়তে হয়। অনেকের সোলার থাকলেও তা দিয়ে বেশিক্ষণ আলো জ্বলে না, ফলে পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল বলেন, “এই তিন গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য আমরা উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার তাগিদ দিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।”
এদিকে কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী জানান, শুধু এই তিনটি গ্রাম নয়, আরও পাঁচটি গ্রামের কিছু অংশ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে আছে। এজন্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার নতুন লাইন প্রয়োজন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও সময়সাপেক্ষ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কায়সার হামিদ জানান, এই গ্রামগুলোকে দ্রুত বিদ্যুতের আওতায় আনতে উপজেলা ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


