স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের সন্ধানী সুপার মার্কেটের ‘তন্বী ইলেকট্রনিকস’ থেকে বিদেশি পিস্তলসহ আলী হোসেন (৩২) আটকের ঘটনায় নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। একদিকে সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যময় ব্যক্তির আনাগোনা, অন্যদিকে আটকের অতীত অপরাধের খতিয়ান—সব মিলিয়ে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করেছে।
পুরনো মামলার আসামি ও এজাহারের তথ্য: মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আটক আলী হোসেন কোনো সাধারণ ব্যবসায়ী নন। ২০১৬ সালে শার্শা থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা ছিল। তার বিরুদ্ধে যশোরের শার্শা থানায় ৯ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে দায়েরকৃত একটি অস্ত্র মামলার (এফআইআর নং- ১৪/২৯৩, সময় ১২:৩০ ঘটিকা) সন্ধান পাওয়া গেছে। উক্ত মামলাটি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় রুজু করা হয়েছিল। এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, জনৈক টিটু (পিতা-অজ্ঞাত) এবং অন্য একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে এই অস্ত্রটি দিয়েছিল। ডিবির জেরার মুখে আলী হোসেন দাবি করেছেন, তিনি ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে চেনেন না। তবে সিসিটিভি ফুটেজ বলছে ভিন্ন কথা।
সিসিটিভি ফুটেজ ও এজাহারের অমিল: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি আলীর দোকানে অস্ত্রটি রেখে যাচ্ছেন। আলী হোসেন পুলিশের কাছে দাবি করেছেন যে তিনি ওই ব্যক্তিকে চেনেন না। তবে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—শার্শা থানায় আগে থেকেই অস্ত্র মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আলী কেন অপরিচিত একজনকে তার দোকানে এভাবে ঢুকতে দিলেন? সিসিটিভি ফুটেজে ওই ব্যক্তির প্রবেশের ধরন দেখে তাকে আলীর পূর্বপরিচিত বলেই মনে করছেন অনেকে। সচেতন মহলের ধারণা, পুরনো এই অস্ত্র কারবারিকে আড়াল করতে কোনো প্রভাবশালী মহল বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রচার করে তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা? শহরের টক অব দ্য টাউনে পরিণত হওয়া এই ঘটনাটি নিয়ে এখন দুই ধরনের গুঞ্জন চলছে। একটি পক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে তাকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করলেও, এজাহার ও পূর্বের অপরাধ রেকর্ড অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেক সচেতন নাগরিক মনে করছেন, এই চিহ্নিত অস্ত্র কারবারিকে আড়াল করতে এবং মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে কোনো মহল সুকৌশলে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তদন্ত ও আইনি জটিলতা: যশোর ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে-র দায়ের করা এজাহারে পলাতক আসামি হিসেবে টিটুসহ আরও একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা গেলেই পরিষ্কার হবে—এটি কি কোনো ষড়যন্ত্র ছিল, নাকি অস্ত্র কেনাবেচার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।


