শরীফ স্বাধীন,মাগুরা:
দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির মধ্যে মাগুরা জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষিত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদক বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনলে হাসপাতালে কর্মরতরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড, বিশেষ চিকিৎসা কর্নার এবং চিকিৎসক কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সরেজমিনে এর কোনো কার্যকর বাস্তবতা পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরুতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রস্তুতি থাকার দাবি জানায়।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত রোগীর অবস্থান জানতে গিয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ঘুরেও প্রথমদিকে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ও কর্মকর্তাদের মধ্যেও সমন্বয়ের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। পরে পঞ্চম তলায় দুইজন হামে আক্রান্ত শিশুকে পাওয়া যায়, যাদের সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেই অন্যান্য রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি সিভিল সার্জন শামীম কবিরের নজরে আনা হলে তিনি প্রতিবেদককে সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান। তিনিও একই চিত্র দেখতে পান। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। দ্রুত আইসোলেশন ওয়ার্ড চিহ্নিতকরণ, সংক্রামক রোগী আলাদা করা এবং চিকিৎসক দল গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। ফলে এতদিন উপেক্ষিত থাকা সরকারি নির্দেশনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার মান সন্তোষজনক নয়। এক অভিভাবক বলেন, “এক রুমে ঠাসাঠাসি করে রোগী রাখা হয়েছে, কী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না।” আরেকজন জানান, “এক তলা থেকে আরেক তলায় ঘুরলেও কোন নার্স সহযোগিতা করেনি”
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির শুরুতে তা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে সেবার মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রোগীর স্বজনদের মধ্যে। হামে আক্রান্ত এক শিশুর মা মনোয়ারা বলেন, “এক রুমে ঠাসাঠাসি করে রোগী রাখা হয়েছে। কী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। নার্সদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না।”
আরেক অভিভাবক অনিতা বেগম বলেন, “১৪ মাসের শিশুকে নিয়ে এক তলা থেকে আরেক তলায় ঘুরছি। এক ঘণ্টা ধরে কেউ সঠিকভাবে কিছু বলছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।”
সিভিল সার্জন শামীম কবির বলেন, “বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” “হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সমস্যা হতে পারে, তবে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”তবে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও হাসপাতালের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।


