স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন: লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে জিম্মি ১৩যুবক

স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন: লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে জিম্মি ১৩যুবক

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ জন টগবগে যুবক উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ইউরোপের পথে। কিন্তু স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পৌঁছানোর আগেই লিবিয়ার মরুভূমিতে তারা আটকা পড়েছেন মাফিয়া চক্রের নৃশংস খাঁচায়। বর্তমানে জিম্মি অবস্থায় দুর্বিষহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা, আর সেই আর্তনাদ ভিডিও কলে দেখে আহাজারি থামছে না স্বজনদের।

জিম্মি যুবকদের স্বজনরা জানান, অপহরণকারীরা ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। স্ক্রিনের ওপাশ থেকে সন্তানদের বাঁচানোর আকুতি শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দরিদ্র বাবা-মায়েরা। “মা আমাকে বাঁচাও, টাকা না দিলে এরা আমাকে মেরে ফেলবে”—জিম্মি সন্তানদের এমন কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে জামালগঞ্জের বাতাস।

জানা গেছে, জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামসহ আশপাশের মোট ১৩ যুবক স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৩ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার মৌখিক চুক্তি করেন। দেড় মাস আগে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছালে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হন।

জিম্মি যুবকদের তালিকা: নিপীড়নের শিকার যুবকদের মধ্যে রয়েছেন—নিলয় মিয়া (২২), শফিকুল ইসলাম (৩২), আমিনুল ইসলাম (২৫), দুই ভাই ইয়াছিন মিয়া (৩০) ও জীবন মিয়া (২৫), আব্দুল কাইয়ুম (২৬), আতাউর রহমান (২৮), মনিরুল ইসলাম (২৪), মামুন মিয়া (২৭), এনামুল হক (২৬), আতাউর রহমান (২৯), আবুল হামজা (২৫) এবং আবুল কালাম। এদের মধ্যে ইয়াছিন মিয়া মাফিয়াদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচলেও বর্তমানে তিনি লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

কান্নায় সিক্ত ঈদ: সামনেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। যখন ঘরে ঘরে আনন্দ থাকার কথা, তখন এই ১৩টি পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান আবুল হামজার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে মাফিয়াদের উদ্দেশ্যে বলছেন, “বাবা আমার কাছে টাকা নাই, আমি ভিক্ষা করে দেব, তাও আমার বাজানরে আর মাইরো না।” মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে অনেকে ভিটেমাটি বিক্রি করছেন, কেউবা চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছেন।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়া জানান, ভুক্তভোগীদের স্বজনরা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৪ মার্চ, ২০২৬

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *